Recent News

Featured Stories

Just In

Business

- Advertisement -

Technology

Recent News

বক্রেশ্বরে ভক্তদের ঢল, তারকেশ্বরের মতো উন্নয়নের দাবি তুললেন মন্দির কমিটির সভাপতি

তারকেশ্বরে উন্নয়নের জোয়ার, বক্রেশ্বর কি তবে বঞ্চিত? শ্রাবণের তৃতীয় সোমবারেই উঠল উন্নয়নের জোরালো দাবি

প্রতিবেদন: অভ্রদীপ ঘোষ | রাজনগর, বীরভূমবীরভূম: শ্রাবণ মাসের তৃতীয় সোমবার উপলক্ষে ৫১টি সতীপীঠের অন্যতম বক্রেশ্বর সতীপীঠে ভোর থেকেই উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শক্তিপীঠ ও শৈবক্ষেত্র—দুই ধর্মীয় মাহাত্ম্যের জন্যই শ্রাবণ মাসে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও অন্যান্য রাজ্য থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী এখানে এসে বাবা বক্রেশ্বরের মাথায় জল অর্পণ করেন। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মন্দির চত্বর এবং আশপাশের এলাকা কার্যত ভক্তদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে।ভক্তদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এ বছর শ্রাবণ মাসের পাঁচটি সোমবারেই মন্দিরে চোঙ্গার মাধ্যমে জল ঢালার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে না পুণ্যার্থীদের। দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে জল অর্পণ করে তাঁরা মন্দির চত্বর ত্যাগ করতে পারছেন। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ব্যবস্থার ফলে ভিড়, ঠেলাঠেলি এবং বিশৃঙ্খলা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।বক্রেশ্বর মন্দির কমিটির সভাপতি দেবনাথ মুখার্জি জানান, ভক্তদের নিরাপত্তা ও পরিষেবার স্বার্থে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে প্রায় ৭০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নিরাপত্তার কড়া ব্যবস্থা করা হয়েছে,
যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং প্রত্যেক ভক্ত নির্বিঘ্নে পুজো দিতে পারেন।এদিকে সম্প্রতি তিলপাড়া থেকে বক্রেশ্বরগামী কাঁধে-বাঁক যাত্রাপথে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ও নিরাপত্তার দাবিতে জেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন বীরভূম সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। এরপর যাত্রাপথের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দেবনাথ মুখার্জি বলেন, ভক্তদের সুবিধার জন্য এই পদক্ষেপ অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে তাঁর দাবি, এই ব্যবস্থা শুধু শ্রাবণ মাসে সীমাবদ্ধ না থেকে সারা বছর স্থায়ীভাবে বজায় রাখা উচিত।শুধু আলোকসজ্জা নয়, বক্রেশ্বরের সার্বিক উন্নয়নের দাবিও এদিন জোরালোভাবে তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বক্রেশ্বরের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এখনও সেই মানের পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। অতীতে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হলেও তার যথাযথ ব্যবহার হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর আক্ষেপ, তারকেশ্বরকে যেভাবে আধুনিক ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে, বক্রেশ্বরও সেই একই গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য।তিনি প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান, বক্রেশ্বরকে আর বঞ্চিত না রেখে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যটন পরিকাঠামো, স্থায়ী আলোকসজ্জা, পরিচ্ছন্নতা ও ভক্তদের জন্য উন্নত সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হোক। তাঁর মতে, এতে যেমন ভক্তদের সুবিধা বাড়বে, তেমনি বক্রেশ্বরকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় পর্যটনেরও আরও প্রসার ঘটবে।শ্রাবণের পবিত্র আবহে তাই এদিন শুধু ভক্তির স্রোতই নয়, বক্রেশ্বরের স্থায়ী উন্নয়নের দাবিও নতুন করে সামনে উঠে এল। এখন প্রশাসন এই দাবির প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা, ভক্ত এবং মন্দির কমিটির।

dooarsnews24@gmail.com

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Popular

Scroll to Top